Writing 035 Read Count : 27

Category : Articles

Sub Category : Lifestyle

"ঋতু",,,,,
একটানা প্রচন্ড ভালোলাগা,,,কথায় বলে উদ্দীপ্ত আদর....!
"তিতলি" ও "খেলা" র মাধ্যম দিয়ে যাঁর সাথে আমার পরিচিতি। বলতে পারেন একপ্রকার নিরেট আবিষ্কারের উদ্যোগ মাত্র । ছোটোবেলা থেকেই আমি বাবা মা,, সিনেমাপ্রেমী ছোটো-পরিবার... ভালো থেকে মন্দ সবরকম সিনেমা দেখার স্বাধীনতা ভালো মতোই রপ্ত করতে পেরেছিলাম আমি। "মন্দ" বলতে বেশ কিছু এলিটিস্টদের ভাষায় "শারীরিক ছবি" বলতে যা বোঝায়। "ভবিষ্যৎ ১২-এর কাঁটায় পৌঁছবে", আমার তথাকথিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতিবাদী কন্ঠে এমন অনেক দাবি শোনা গেছে। বাবা সবসময় বলতেন একদিন তো সব জানতেই হবে, একটু আগে জানলে ক্ষতি কী? বিদ্যালয়-বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তে তো আমরা অ্যাডভান্স স্টাডি নিয়ে খুব মাতামাতি করি,, এক্ষেত্রেই বা তার অন্যথা হবে কেন..? যদিও তখন সেইভাবে কিছু বুঝতাম না, বোঝার কথাও নয় কারণ বর্তমান জেনারেশনের সঙ্গে তুলনা করাটা নেহাতই মূর্খামি..! ১২ কি ১৩ হবে তখন,,,,,কোনো একটি ছবিতে "কনসিভ্" শব্দটি শুনেছিলাম... বিন্দুমাত্র চিন্তাভাবনা য় মনোযোগ না দিয়ে "মা" কে সুধিয়েছিলাম "এর মানে কি গো"..? "মা" খানিকটা অস্বস্তি তে পড়েছিলেন বটে..! তবে মানেটা শেষমেশ উদ্ধার করা গিয়েছিল বইকি...!
তবে বাচ্চা কীভাবে হয় এই ব্যাপারে আমার সঙ্গে ঘোষ মহাশয়ের (ঋতুপর্ণ ঘোষ) বেশ মিল আছে,,, ঠিক মনে নেই কোন্ সহৃদয় ব্যক্তি এ রহস্য উদঘাটন করেছিলেন..! তবে "ঘোষ অ্যান্ড কোম্পানি"----টকশো টা বড্ড বেশিই মিস্ করি...
   "ঋতুপর্ণ" সম্পূর্ণ টাই নিজের মতো করে, আবিষ্কারের চেষ্টা,,,সম্পূর্ণ টায় যদিও ব্যর্থ..! কথায় বলেনা প্রকৃত শিল্প আড়ালে ই থাকে.... "সব চরিত্র কাল্পনিক"-এর ঋতু আজও " অসুখে "...
ঋতু-র কথায়,,, 

  • [তথ্যসূত্রে পাওয়া]
১. কথা কে শিখিয়েছিল জানি না।
২. প্রথম পাখি দেখতে শিখি, বাড়ির শোবার ঘরে লাল রঙের একটা বেড কভার ছিল। সেখানে একটা পাখির ছবি ছিল। পাখি বলতে পারতাম না – বলতাম ‘কাপি’।
৩. ‘আলো আমার আলো ও গো’-গান শিখিয়েছিল মাসিমনি চান করার সময় তেল মাখাতে মাখাতে।
৪. প্রথম ‘ঝর্ণা কলম’, ‘ফাউন্টেন পেন’-এ লিখতে শিখিয়েছিলেন বাবা।
৫. রোজ সন্ধ্যাবেলায় স্কুলের হোমওয়ার্ক সেরে বাবার কাছে শুনতাম শেখর বসুর ‘মহাভারত’। আমি আর ঠাকুমা। বাবা শিখিয়েছিলেন কি করে যাদুঘর দেখতে হয়। দক্ষিণ ভারতের মন্দিরের সঙ্গে আমাদের উত্তর পূর্ব-পশ্চিম দিকের মন্দিরের কি তফাৎ। ইংরেজী হরফ যে আসলে রোমান হরফ বাবাই বলেছিল।
৬.রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার পরিচয় মা-এর মাধ্যমে- ‘সঞ্চয়িতা’ থেকে মা কবিতা পড়তেন। আমাকে ঘুম পাড়ানোর সময়।
৭. ঠাকুমার কাছে জেনেছিলাম কাঁচালঙ্কার রং সবুজ আর শুকনো লঙ্কার রং লাল। তেতোর পর জল খেলে মিষ্টি লাগে। গরমকালে মাটির কুঁজোর জল ঠান্ডা আর শীতকালে লাগে কাঁথা।
৮. বাড়ির কাজের লোক পঞ্চু দিদকে আমরা পঞ্চু পিশি বলতাম। জেনেছিলাম বৃহস্পতিবারকে ‘বিষ্যুদবার’ বলা যেতে পারে জেনেছিলাম তখন।
৯. কি করে বাচ্চা হয় কে বলেছিল ভুলে গেছি।
১০. বাংলা ভাষা নিয়ে অহংকার করা যে বিরাট কোন দোষের কাজ নয়- শিখিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়, শিবরাম, মুজতবা আলি।
১১. সিনেমা নিয়ে যে সন্ধি চাইলে কবিতা বলা যায় শিখেছি সত্যজিৎ রায় এর কাছে.......
আজ চিরকালীন এর জন্মদিন,,,, 

"ঋতু"...

Comments

  • No Comments
Log Out?

Are you sure you want to log out?